West Bengal Boards Class 8 History Question & Answers Part - 4
Ostom Shrenir Etihas Ouponibesik Orthonitir Choritro
অষ্টম শ্রেণীর ইতিহাস – ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চরিত্র / Class 8 History Question & Answers অষ্টম শ্রেণীর ইতিহাস প্রশ্ন ও উত্তর(Class 8 History Questions and Answers in Bengali) সিরিজের মধ্যে আজকে তোমাদের জন্য থাকছে চতুর্থ অধ্যায় ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চরিত্র প্রশ্ন ও উত্তর (Class Eight Ouponibesik Orthonitir Choritro Proshno o Uttor)। ভালো করে প্রশ্ন ও উত্তরগুলো বাড়িতে বসে প্রাকটিস করো এবং আমাদের কমেন্ট করে জানাতো পারো তোমার এই পোস্টটি কেমন লাগলো এবং এর সাথে তোমার যদি কোনো সমস্যা থাকে তাহলে সেটিও আমাদের জানাতে পারো ।
অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায় অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর । প্রশ্নের মান - 1
1. ঠিক উত্তরটি নেছে লেখো : প্রশ্নমান- 1
(i) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু হয়েছিল –
(a) ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে,
(b) ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে,
(c) ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে,
(d) ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর : - (b) ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে,
(ii) মানচিত্রটি ঔপনিবেশিক ভারতে ভূমি-রাজস্ব বন্দোবস্তের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলগুলিকে দেখাচ্ছে। মানচিত্রে চিহ্নিত অঞ্চলে কোন্ ভূমি রাজস্ব বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হয়েছিল ? –
(a) রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত,
(b) মহলওয়ারি বন্দোবস্ত,
(c) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত,
(d) তালুকদারি বন্দোবস্ত
উত্তর : - (c) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত,
(iii) কে ইজারাদারী ব্যবস্থা চালু করেন?
(A) লর্ড কর্নওয়ালিস
(B) লর্ড ওয়েলেসলি
(C) ওয়ারেন হেস্টিংস
(D) লর্ড কার্জন
উত্তর: (C) ওয়ারেন হেস্টিংস
(iv) ঔপনিবেশিক ভারতে প্রথম পাটের কারখানা চালু হয়েছিল –
(A) রিষড়ায়
(B) কলকাতায়
(C) বোম্বাইতে
(D) মাদ্রাজে
উত্তর: (A) রিষড়ায়।
(v) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন—
(A) ওয়ারেন হেস্টিংস
(B) কর্নওয়ালিস
(C) ডালহৌসি
(D) উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
উত্তর: - (A) ওয়ারেন হেস্টিংস
(vi) মহলওয়ারি ব্যবস্থা চালু হয়েছিল –
(A) বাংলায়
(B) বিহারে
(C) উত্তর ভারতে
(D) দক্ষিণ ভারতে
উত্তর: (B) উত্তর ভারতে
(vii) ‘দাদন' বলতে বোঝায়—
(A) আবওয়াব
(B) বেগার শ্রম
(C) অগ্রিম অর্থ
(D) খাজনা
উত্তর: - (C). অগ্রিম অর্থ
(viii) কোম্পানির ভূমি রাজস্ব আদায়ের একটি ব্যবস্থা হল –
(A) দাদন
(B) ইজারাদারি
(C) বেগার শ্রম
(D) মহলওয়ারি
উত্তর: (B) ইজারাদারি
(ix) নবাবি আমলে নবাব রাজস্ব আদায় করতেন—
(A) চাষির থেকে
(B) বর্গাদারদের থেকে
(C) জমিদারদের থেকে
(D) ইজারাদারদের থেকে
উত্তর: (C) জমিদারদের থেকে
(x) জমিদাররা ঠিক সময় রাজস্ব দিতে না পারলে জমিদারের সম্পত্তি বিক্রির অধিকার ছিল –
(A) জমিদারের
(B) কৃষকের
(C) কোম্পানির
(D) নবাবের
উত্তর: (C) কোম্পানির
(xi) ‘মহল' কথাটির অর্থ হল—
(A) একটি গ্রাম
(B) একটি জেলা
(C) কয়েকটি গ্রামের সমষ্টি
(D) একটি রাজ্য
উত্তর: (C) কয়েকটি গ্রামের সমষ্টি
(xii) ‘রায়ত’ কথার অর্থ হল –
(A) জমিদার
(B) চাষি
(C) নবাব
(D) মহাজন
উত্তর: (B) চাষি
(xiii) কৃষির বাণিজ্যিকীকরণের উপযুক্ত ফসল হল—
(A) গম
(B) ধান
(C) নীল
(D) ভুট্টা
উত্তর: (C) নীল
(xiv) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে ব্যবসার একচেটিয়া অধিকার হারায়-
(a) 1757 খ্রিস্টাব্দে
(b) 1813 খ্রিস্টাব্দে
(c) 1857 খ্রিস্টাব্দে
(d) 1765 খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (b) 1813 খ্রিস্টাব্দে।
(xv)ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সনদ নবীকরণ করা হত—
(A) ১০ বছর অন্তর
(B) ২০ বছর অন্তর
(C) ৩০ বছর অন্তর
(D) ৪০ বছর অন্তর
উত্তর: (B) ২০ বছর অন্তর
(xvi) কুলি কাহিনির লেখক হলেন—
(A) দ্বারকানাথ ঠাকুর
(B) রামকুমার বিদ্যারত্ন
(C) রাজা রামমোহন
(D) অক্ষয় কুমার দত্ত
উত্তর: (B) রামকুমার বিদ্যারত্ন
(xvii) কত খ্রিস্টাব্দে ইজারাদারী ব্যবস্থা চালু হয়?
(A) ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে
(B) ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে
(C) ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে
(D) ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (B) ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে
(xviii) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু হয়েছিল –
(A) বাংলায়, বিহারে ও উড়িষ্যায়
(B) পাঞ্জাব ও রাজস্থান
(C) মহারাষ্ট্র ও গুজরাট
(D) মাদ্রাজ ও কর্নাটক
উত্তর: (A) বাংলায়, বিহারে ও উড়িষ্যায়
(xix) রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত চালু হয়েছিল –
(A) বাংলায় ও বিহারে
(B) পাঞ্জাব ও রাজস্থান
(C) মাদ্রাজ ও বম্বে প্রেসিডেন্সিতে
(D) উড়িষ্যা ও আসামে
উত্তর: (C) মাদ্রাজ ও বম্বে প্রেসিডেন্সিতে
(xx) ঔপনিবেশিক সরকার রেলপথ নির্মাণ, রফতানির হার বৃদ্ধি ও কৃষিতে বাণিজ্যিকীকরণের প্রক্রিয়াকে কী বলে ব্যাখ্যা করত?
(A) শিল্পায়ন
(B) অর্থনীতির আধুনিকীকরণ
(C) কৃষি সংস্কার
(D) বাণিজ্য সম্প্রসারণ
উত্তর: (B) অর্থনীতির আধুনিকীকরণ
Class 8 history chapter 4 ouponibeshik orthonitir choritro question answer
2. ঠিক না ভুল লেখো :
(i) সূর্যাস্ত আইন আমরা রায়তওয়ারি ব্যবস্থায় পাই।
উত্তর : - ভুল
(ii) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হয়েছিল বাংলা প্রদেশে।
উত্তর : - ঠিক
(iii) রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত-এর একজন অন্যতম প্রবর্তন ব্যক্তি থমাস মনরো।
উত্তর : - ঠিক
(iv) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত-এর একজন অন্যতম প্রবর্তন ব্যক্তি ফিলিপ ফ্রান্সিস।
উত্তর : - ঠিক
(v) মহলওয়ারি বন্দোবস্ত করা হয় চাষীর সঙ্গে।
উত্তর : - ভুল। মহলওয়ারি বন্দোবস্ত করা হয় গ্রামের সম্প্রদায়ের সঙ্গে।
(vi) চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে কৃষকরাই জমির মালিকে পরিণত হয়।
উত্তর: ভুল
(vii) দাক্ষিণাত্যের তুলো চাষিদের ঋণ দিল স্থানীয় সাহুকার-মহাজনেরা।
উত্তর : - ঠিক
(viii) ব্রিটেনের তৈরি কাপড়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে ভারতীয় সুতিবস্ত্র শিল্প ধ্বংস হয়েছিল।
উত্তর : - ঠিক
(ix) দ্বিতীয় ইঙ্গ-বার্মা যুদ্ধে বার্মার পরাজয় হয়েছিল।
উত্তর : - ঠিক
(x) কোম্পানির শাসনে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলার উন্নয়ন।
উত্তর: ভুল
Class 8 History Chapter 4 ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চরিত্র Questions and Answers in Bengali
3. দুটি মিলিয়ে লেখো :
ক- স্তম্ভ খ - স্তম্ভ
(i) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (a) আলেকজান্ডার ডাও
(ii) আবওয়াব (b) মহাজন
(iii) সাহুকার (c) অগ্রিম অর্থ
(iv) দাদন (d) কৃষক
(v) রায়ত (e) বেআইনি কর
উত্তর : -
ক- স্তম্ভ খ - স্তম্ভ
(i) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (a) আলেকজান্ডার ডাও
(ii) আবওয়াব (e) বেআইনি কর
(iii) সাহুকার (b) মহাজন
(iv) দাদন (c) অগ্রিম অর্থ
(v) রায়ত (d) কৃষক
ক্লাস 8 ইতিহাস অধ্যায় 8 প্রশ্ন এবং উত্তর / অষ্টম শ্রেণীর ইতিহাস প্রশ্ন ও উত্তর
4. একটি বাক্যে উত্তর দাও : প্রশ্নমান- 1
(i) বাংলায় কে ইজারাদারি ব্যবস্থা চালু করেন ?
উত্তর : - ওয়ারেন হেস্টিংস।
(ii) অবশিল্পায়ন কী?
উত্তর : - অবশিল্পায়ন হলো শিল্পের অধোগতি। ব্রিটিশ শাসনে ভারতের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও কুটিরশিল্প ধ্বংস হয়, বিদেশি পণ্যের আধিপত্য বাড়ে, ফলে দেশীয় কারিগররা বেকার হয়ে কৃষির ওপর নির্ভরশীল হয়।
(iii) মহলওয়ারি ব্যবস্থায় ‘মহল' শব্দটি কি গ্রামের সমষ্টি?
উত্তর : - হ্যাঁ।
(iv) সম্পদের বহির্গমন বলতে কী বোঝো?
উত্তর : - সম্পদের বহির্গমন বলতে বোঝায় এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ ও সম্পদের প্রবাহ, যা সাধারণত উপনিবেশবাদী শাসনের ফলে ঘটে। ব্রিটিশ শাসনে ভারতের সম্পদ কর, মুনাফা, কাঁচামাল ও শ্রমের মাধ্যমে ইংল্যান্ডে চলে যেত, ফলে ভারতের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে।
(v) কোন্ ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীর অস্তিত্ব ছিল?
উত্তর : - মহলওয়ারি বন্দোবস্তে।
(vi) বাংলা, বিহার ও ওড়িশাতে কোন্ ভূমি বন্দোবস্ত চালু হয়েছিল?
উত্তর : - চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত।
(vii) দেশীয় শিল্পের অধঃপতন কী নামে পরিচিত?
উত্তর : - "অবশিল্পায়ন" (Deindustrialization) নামে পরিচিত
(viii) বাংলায় কবে নীলবিদ্রোহ ঘটে ছিল ?
উত্তর : - ১৮৫৯-১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে।
(ix) Tenancy Act (প্রজাস্বত্ব আইন)জারি করা হয় কত খ্রিস্টাব্দে ?
উত্তর : - ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে।
(x) Agriculturists Relief Act (কৃষকদের সুবিধার জন্য আইন)জারি করা হয় কত খ্রিস্টাব্দে ?
উত্তর : - ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে।
(xi) প্রথম পাটের কারখানা চালু হয় কোথায় ?
উত্তর : -হুগলির রিষড়ায়।
(xii) প্রথম পাটের কারখানা চালু হয় কত খ্রিস্টাব্দে ?
উত্তর : - ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে।
(xiii) কবে ব্রিটেনে সুতি কাপড় রপ্তানি বন্ধ হয় ?
উত্তর : - ১৭২০ খ্রিস্টাব্দে।
(xiv) প্রথম সুতির কাপড় তৈরির কারখানা কবে চালু হয় ?
উত্তর : - ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে।
(xv) প্রথম সুতির কাপড় তৈরির কারখানা কোথায় চালু হয় ?
উত্তর : - বোম্বাইতে।
(xvi) ভারতে রেল প্রকল্পের সূচনা কবে হয়েছিল ?
উত্তর : - ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে।
(xvii) ভারতে রেল প্রকল্পের সূচনা কোন গভর্নরের আমলে হয়েছিল ?
উত্তর : - লর্ড ডালহৌসি।
(xviii) ভারতে টেলিগ্রাফ যোগাযোগ ব্যবস্থ্যা কবে শুরু হয় ?
উত্তর : - ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে।
(xix) কত খ্রিস্টাব্দে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে টেলিগ্রাফ যোগাযোগের বিকাশ হয় ?
উত্তর : - ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে।
অষ্টম শ্রেণীর ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায় ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চরিত্র
বেমানান শব্দটি খুঁজে বের করো:
(i) ওয়ারেন হেস্টিংস, কর্নওয়ালিস, ডালহৌসি, বেথুন।
উত্তর: বেথুন।
(ii) বাংলা, বিহার, মাদ্রাজ, উড়িষ্যা।
উত্তর: মাদ্রাজ।
(iii) নীল, পাট, চা, গম।
উত্তর: গম।
(iv) রায়তওয়ারি, মহলওয়ারি, চিরস্থায়ী, খাস মহল।
উত্তর: খাস মহল।
Class VIII History Chapter IV Exercises
5. নীচের প্রশ্নের উত্তর লেখো : (দু-তিনটি বাক্যের মধ্যে ) প্রশ্নমান- 2
(i) ঔপনিবেশিক আমলে ব্যাংক ব্যবস্থায় কীভাবে বৈষম্য করা হত?
উত্তর: ঔপনিবেশিক আমলে ব্যাংক ব্যবস্থায় ব্রিটিশ ও দেশীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্পষ্ট বৈষম্য ছিল। ব্রিটিশ ব্যাংকগুলিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হত, অথচ ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সহজে ঋণ পেত না। অধিকাংশ ঋণ শুধু ব্রিটিশ শিল্পপতিদের দেওয়া হত, ফলে দেশীয় শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
(ii) সূর্যাস্ত আইন কাকে বলে ?
উত্তর: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল যে বাংলা বছরের শেষ দিনে সূর্যাস্তের আগে জমিদারদের নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ করতেই হতো। বিলম্ব হলে তাদের জমিদারি বাজেয়াপ্ত করা হতো। এই নিয়মই "সূর্যাস্ত আইন" নামে পরিচিত।
(iii) কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ বলতে কি বোঝো ?
উত্তর: কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ হলো এমন একটি চাষাবাদ পদ্ধতি, যেখানে খাদ্য ফসলের বদলে শিল্পে ব্যবহৃত ফসল চাষ করা হয়। এই ব্যবস্থায় মূল লক্ষ্য বাজারে লাভবান হওয়া, ফলে তুলা, নীল, আখ, পাট, চা, কফির মতো অর্থকরী ফসলের চাষ গুরুত্ব পায়।
(iv) দাক্ষিণাত্য হাঙ্গামা বলতে কি বোঝো ?
উত্তর: কৃষির বাণিজ্যিকীকরণের ফলে দাক্ষিণাত্যে তুলোর দাম আকস্মিকভাবে কমে যায়। এর ফলে দ্রব্যের মূল্য হ্রাস ও মহাজনদের কঠোর করের চাপে কৃষকরা বিদ্রোহ করে। ১৮৭৫ সালের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই আন্দোলন বা বিদ্রোহ ‘দাক্ষিণাত্য হাঙ্গামা’ নামে পরিচিত।
(v) সম্পদের বহির্গমন কাকে বলে ?
উত্তর: সম্পদের বহির্গমন বলতে বোঝায় একদেশের সম্পদ বিনা প্রতিদানে অন্যদেশে চলে যাওয়া। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের টাকায় ভারতীয় পণ্য কিনে ও নজরানা বাবদ বিপুল অর্থ ইংল্যান্ডে পাঠাত। এর ফলে ভারত ক্রমশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।
(vi) অবশিল্পায়ন বলতে কি বোঝো ?
উত্তর: অবশিল্পায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে অসম প্রতিযোগিতা, কাঁচামাল ও মূলধনের অভাব, বাজার সংকট ইত্যাদির কারণে শিল্প বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শিল্পের সাথে জড়িত মানুষ অন্য পেশায় বাধ্য হয়ে যেতে থাকে।
(vii) অর্থনীতির আধুনিকীকরণ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: অর্থনীতির আধুনিকীকরণ বলতে বোঝায় ব্রিটিশ শাসনে ভারতের অর্থনীতিকে তাদের স্বার্থে বদলে ফেলা। কোম্পানি কৃষকদের চা, নীল, পাট, তুলার মতো বাণিজ্যিক ফসল চাষে বাধ্য করে এবং রেলপথ নির্মাণের মাধ্যমে বিদেশি পণ্যের বাজার বিস্তৃত করে।
(viii) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কী ?
উত্তর: বাংলায় ভূমিরাজস্ব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য লর্ড কর্নওয়ালিসের আমলে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্বের বিনিময়ে জমিদার শ্রেণিকে বংশানুক্রমিকভাবে জমির মালিকানা দান করার যে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়, তাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলা হয়।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলা-বিহার-উড়িষ্যায় ও পরবর্তীকালে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, মাদ্রাজ ইত্যাদি অঞ্চলে প্রবর্তিত হয়েছিল। এই ব্যবস্থার ফলে জমিদাররা জমির মালিক এবং কৃষকরা জমিদারের ভাড়াটিয়া প্রজায় পরিণত হয়। ফলে কৃষকের অবস্থা খুব খারাপের দিকে যেতে থাকে।
(ix) রায়তওয়ারি ব্যবস্থা কাকে বলে?
উত্তর: সরকার ও রায়তদের কৃষকদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের ভিত্তিতে সরকারকে কৃষকদের সরাসরি খাজনা বা রাজস্ব দেওয়ার যে পদ্ধতি তাকে বলা হত রায়তওয়ারি ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা কৃষকদের জমি ভোগ করার স্বত্ব থাকলেও জমির মালিকানা স্বত্ব কৃষকদের ছিল না।
ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতে বিশেষ করে মাদ্রাজে এই ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার প্রবর্তন করে। .
(x) মহলওয়ারি বন্দোবস্ত কাকে বলা হয়?
উত্তর: গভর্নর জেনারেল লর্ড বেন্টিঙ্কের আমলে সমষ্টিগতভাবে এক-একটি গ্রাম বা মহলের সঙ্গে যে ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্ত প্রবর্তন করা হয় তা মহলওয়ারি বন্দোবস্ত নামে পরিচিত। এই ব্যবস্থায় ব্যক্তিগতভাবে রায়ত বা কৃষকের সঙ্গে সরাসরি ভূমিরাজস্বের বন্দোবস্ত করা হত না। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি ও পাঞ্জাবে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের বিশেষ উন্নতি হয়নি।
(xi) 'দাদন' প্রথা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ‘দাদন’-এর অর্থ অগ্রিম। কৃষকরা বা তাঁতিরা যার কাছ থেকে অগ্রিম নিত তার কাছেই তাদের উৎপাদিত দ্রব্য বা ফসল দিতে বাধ্য থাকত— এটাই ‘দাদন' প্রথা।
পলাশির যুদ্ধের পর থেকেই কর্মচারী, দেশীয় গোমস্তাদের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেশের তাঁতিদের দাদন বা অগ্রিম দিত। কোম্পানির দাদন গ্রহণ করায় তাঁতিরা শুধুমাত্র কোম্পানি ছাড়া অন্য কোথাও উৎপন্ন দ্রব্য বিক্রয় করতে পারত না উপরন্তু কম দামে লোকসান স্বীকার করেও উৎপন্ন দ্রব্য কোম্পানিকে বিক্রি করতে বাধ্য থাকত।
WBBSE Class 8 History চার অধ্যায় অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর
6. নীচের প্রশ্নের উত্তর লেখো : (চার-পাঁচটি বাক্যের মধ্যে) প্রশ্নমান- 3 / 5
(i) কৃষির বাণিজ্যিকীকরণের সঙ্গে কৃষক-অসন্তোষ ও বিদ্রোহের সম্পর্কের নিরিখে দাক্ষিণাত্যের তুলো চাষিদের বিদ্রোহকে কি তুমি ‘হাঙ্গামা' বলবে? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর : - দাক্ষিণাত্যে ১৮৭৫ সালে যে কৃষক বিদ্রোহ সংগঠিত হয়েছিল, তা কৃষির বাণিজ্যিকীকরণের প্রত্যক্ষ ফল। কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ বলতে বোঝানো হয় এমন একটি কৃষি ব্যবস্থা, যেখানে খাদ্যশস্যের পরিবর্তে অর্থকরী ফসল, যেমন— তুলা, নীল, পাট ইত্যাদির চাষকে বাধ্যতামূলক করা হয়।
বিদ্রোহের কারণ
১. তুলোর দাম পতন – ১৮৭০ সালে আমেরিকার গৃহযুদ্ধ শেষ হলে বিশ্ববাজারে তুলোর দাম হঠাৎ কমে যায়, ফলে তুলো চাষিরা চরম আর্থিক সংকটে পড়ে।
2. ঋণের বোঝা – তুলো উৎপাদনের জন্য কৃষকরা স্থানীয় সাহুকার ও মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিত। কিন্তু ফসল কম দামে বিক্রি হওয়ায় তারা ঋণ শোধ করতে পারছিল না।
3. জমি বাজেয়াপ্ত – ঋণ শোধ করতে না পারায় মহাজনরা কৃষকদের জমি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে শুরু করে, যা কৃষকদের আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে।
বিদ্রোহ ও ‘হাঙ্গামা’
১৮৭৫ সালের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের সাতারা, পুণে, আহমেদনগর, শোলাপুর প্রভৃতি অঞ্চলে কৃষকরা মহাজনদের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা মহাজনদের জমিদারি নথিপত্র পুড়িয়ে ফেলে এবং ঋণের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ জানায়। এই ব্যাপক বিক্ষোভই ইতিহাসে ‘দাক্ষিণাত্য হাঙ্গামা’ নামে পরিচিত।
কৃষির বাণিজ্যিকীকরণের ফলে কৃষকদের উপর ঋণের চাপ, বাজার দামের পতন এবং মহাজনদের শোষণের ফলে যে ব্যাপক কৃষক অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল, তা স্পষ্টভাবে বিদ্রোহের রূপ নেয়। তাই, দাক্ষিণাত্যের তুলো চাষিদের এই বিদ্রোহকে ‘হাঙ্গামা’ বলা যথার্থ।
(ii) ভারতবর্ষে ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের পিছনে কী কী অর্থনৈতিক কারণ ছিল?
উত্তর: ভারতবর্ষে ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের পিছনে অর্থনৈতিক কারণগুলি হল—
প্রথমত, ঔপনিবেশিক শোষণ, অত্যাচার এবং রাজস্ব আদায়ের বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে ভারতবর্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও ধনসম্পদ ইংল্যান্ডে পাঠানো।
দ্বিতীয়ত, ভারতবর্ষে শোষণের মাধ্যমে অর্জিত অর্থকে পুঁজি করে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব ও ধনতান্ত্রিক অর্থনীতির উন্নতিতে নিয়োগ করা।
তৃতীয়ত, কুটির শিল্পসহ সমস্ত শিল্পকাঠামো ধ্বংস করে ভারতকে ইংল্যান্ডের শিল্পসামগ্রীর বাজারে এবং কাঁচামাল সরবরাহকারী দেশে পরিণত করা।
(iii) ভারতীয় সমাজে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিভিন্ন ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার প্রভাব কীরূপ ছিল?
উত্তর: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রবর্তিত নতুন ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থাগুলিতে রাজস্বের হার অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থায় রাজস্বের হার বৃদ্ধির ফলে সমাজে বিশেষ করে কৃষক সমাজে শোষণের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে কৃষকদের অবস্থা সঙ্গিন হয়ে ওঠে। নতুন ব্যবস্থায় জমিদারশ্রেণি ও কোম্পানি লাভবান হলেও কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপরন্তু রায়ত ব্যবস্থায় রায়তের জমিতে দখলীস্বত্ব স্বীকার করা হয়নি। ফলে রায়তরা জমিদার বা সরকারের ইচ্ছাধীন ভাড়াটে রূপে ভূমিদাসে পরিণত হয়। তাছাড়া নতুন ব্যবস্থায় জমি কেনাবেচার ব্যবস্থা চালু থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ভূমিহীন কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তার ফলে গ্রামীণ সমাজে জমিদার, মহাজন, বণিক ও সরকারি কর্মচারীদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের সঙ্গে কৃষক ও সাধারণ প্রজাদের বিবাদ-বিসংবাদ বাড়তে থাকে। অনেক সময় কৃষকরা কোম্পানি, জমিদার ও মহাজনদের কাজকর্মে অসন্তুষ্ট হয়ে,সহ্যের সীমা ছাড়ালে বিদ্রোহের পথে যেতেও বাধ্য হয়।
এককথায় বলা যায় যে ঊনবিংশ শতকে প্রবর্তিত নতুন ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার ফলে গ্রামীণ জীবনের কৃষকদের উন্নতির পরিবর্তে জমিদার,মহাজন, সরকারি কর্মচারীদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ভারতের গ্রামীণ জীবনে পরবর্তীকালে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে।
(iv) কোম্পানির আমলে বাংলার বস্ত্রশিল্পের অবক্ষয়ের কারণগুলি উল্লেখ করো।
উত্তর: কোম্পানির আমলে বাংলার বস্ত্রশিল্পের অবক্ষয়ের কারণগুলি নীচে বর্ণনা করা হল—
সপ্তদশ শতক থেকেই বস্ত্রশিল্পে বাংলা তথা ভারতবর্ষ ছিল পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সমৃদ্ধশালী দেশ। ভারতীয় বস্ত্রের চাহিদা ইংল্যান্ডের ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছিল। ভারতীয় বস্ত্রের এই চাহিদা ইংল্যান্ডের বস্ত্র প্রস্তুতকারকদের যথেষ্ট ভাবিয়ে তুলেছিল। ভারতীয় বস্ত্রের চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আইনও তৈরি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বিদেশের বাজারে ভারতীয় সুতিবস্ত্রের চাহিদা অব্যাহত ছিল।
ভারতে কোম্পানির শাসনের সময় থেকেই ঐতিহ্যমণ্ডিত এই কুটির শিল্পের দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে এবং দ্রুত অবক্ষয়ের মুখে পতিত হয়। কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কোম্পানি তাঁতিদের কাছ থেকে কম দামে বস্ত্র কিনে নিত এবং বিদেশের বাজারে তা বিক্রি করত। বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার সুযোগ থাকায় কোম্পানি ভারতের বাজার থেকে অন্যান্য ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের হটিয়ে দিয়ে বাংলার ব্যাবসাবাণিজ্যের ক্ষেত্রে তারা একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে। এদেশের বণিকরা কোম্পানির সঙ্গে পেরে উঠত না ফলে তাদের অবস্থাও ধীরে ধীরে খারাপ হয়। বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে কোম্পানির মূলনীতি ছিল সর্বাপেক্ষা কম দামে মাল কিনে তা ইউরোপীয় বাজারে চড়া দামে বিক্রি করা। ভারতীয় বস্ত্রশিল্প এতে ধ্বংস হয়। ইংল্যান্ডের উৎপন্ন পণ্য যাতে অবাধে ভারতে আসতে পারে তার জন্য কোম্পানি আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেয় অন্য দিকে ব্রিটেনে ভারত থেকে রপ্তানি করা পণ্যের ওপরই উঁচু হারে শুল্ক ধার্য করা হয়। ব্রিটেনে ভারতের রপ্তানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্কের হার ছিল অত্যন্ত বেশি। ইতিমধ্যে কোম্পানি রেলপথ আবিষ্কারের ফলে ব্রিটেনে তৈরি কাপড় ভারতের বাজারে অবাধে প্রবেশ করতে থাকে।
(v) ভারত কীভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের 'রত্ন'-এ পরিণত হয়েছিল?
উত্তর: ভারতকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ‘রত্ন’ (Jewel in the Crown) বলা হত কারণ এটি ব্রিটিশদের জন্য বিপুল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক লাভের উৎস হয়ে উঠেছিল। মূলত ভারতের সম্পদ, কৃষিজ উৎপাদন, বাজার ব্যবস্থা ও শ্রমশক্তি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
১. অর্থনৈতিক লুণ্ঠন ও সম্পদের বহির্গমন
i. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে ব্যবসার নামে শাসন কায়েম করে এবং বিপুল সম্পদ শোষণ করতে থাকে।
ii. ‘ড্রেন থিওরি’ অনুযায়ী, ভারত থেকে বিনা প্রতিদানে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ ব্রিটেনে চলে যেত।
iii. কাঁচামাল স্বল্প মূল্যে কিনে ব্রিটেনের শিল্পে ব্যবহার করা হত, কিন্তু ভারতীয় বাজারে ব্রিটিশ পণ্য উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা হত।
২. কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ ও ভারতকে কাঁচামালের উৎসে পরিণত করা
i. কৃষকদের অর্থকরী ফসল (যেমন— নীল, তুলা, পাট, চা, কফি) চাষে বাধ্য করা হয়।
ii. কৃষিপণ্যের অধিকাংশই ব্রিটেনে রপ্তানি করা হত, যা ভারতীয় কৃষকদের দুর্দশার কারণ হয়ে ওঠে।
iii. ব্রিটিশ শিল্পের চাহিদা মেটাতে ভারতকে কাঁচামালের প্রধান সরবরাহকারী হিসাবে গড়ে তোলা হয়।
৩. দেশীয় শিল্পের ধ্বংস
i. ভারতের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্প ও অন্যান্য কুটির শিল্প পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়।
ii. ভারতীয় তাঁতিদের কাঁচা সুতো উচ্চমূল্যে কিনতে বাধ্য করা হত, কিন্তু ব্রিটিশ তৈরি কাপড় ভারতীয় বাজারে সস্তায় বিক্রি হত।
iii. শিল্পের অবক্ষয়ের ফলে কৃষির উপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যায়, যা ভারতকে পুরোপুরি একটি উপনিবেশে পরিণত করে।
৪. রেলপথ ও পরিকাঠামো গঠন শুধুমাত্র ব্রিটিশ স্বার্থে
i. রেল, টেলিগ্রাফ ও সড়ক তৈরি করা হয়েছিল প্রধানত ব্রিটিশ পণ্য পরিবহণ ও সামরিক নিয়ন্ত্রণের সুবিধার জন্য।
ii. ভারতীয়দের জন্য কোনও বড় শিল্পোন্নয়ন করা হয়নি, বরং সমস্ত পরিকাঠামো উপনিবেশিক শোষণ ব্যবস্থাকে সুসংহত করেছিল।
৫. ভারতের বিশাল বাজার ব্রিটিশদের জন্য লাভজনক কেন্দ্র
i. ভারতের বিপুল জনসংখ্যা ব্রিটিশ শিল্পের জন্য বিশাল বাজারের ভূমিকা পালন করেছিল।
ii. ব্রিটিশরা ভারতে তাদের তৈরি পণ্য উচ্চ দামে বিক্রি করত, যা তাদের শিল্পবিপ্লবকে আরও সমৃদ্ধ করেছিল।
ভারত তার বিপুল সম্পদ, কাঁচামাল ও শ্রমশক্তির জন্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে মূল্যবান উপনিবেশ হয়ে ওঠে। ব্রিটিশরা ভারতকে শুধু শোষণের কেন্দ্র বানিয়েছিল, আর্থিক ও বাণিজ্যিকভাবে তাদের বিশ্বসাম্রাজ্যের শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছিল। তাই ভারতকে ‘ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রত্ন’ বলা হয়।
(vi) নীলবিদ্রোহ কেন ঘটেছিল?
উত্তর: নীলবিদ্রোহ (১৮৫৯-৬০) ছিল বাংলার কৃষকদের ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান গণআন্দোলন। ব্রিটিশ ও দেশীয় নীলকরদের অত্যাচার এবং কৃষকদের প্রতি শোষণমূলক নীলচাষ পদ্ধতির ফলে এই বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়েছিল।
নীলবিদ্রোহের কারণ
১. নীলকরদের অত্যাচার ও বাধ্যতামূলক চাষ
i. ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় নীলকররা কৃষকদের জোরপূর্বক নীল চাষ করতে বাধ্য করত।
ii. চাষিরা নিজের ইচ্ছায় ধান বা অন্যান্য ফসল ফলাতে পারত না।
iii. দাদন ব্যবস্থা অনুযায়ী কৃষকদের নীলচাষের জন্য আগাম টাকা দেওয়া হত, যা পরে সুদে-আসলে ফেরত দিতে হত।
২. কম দামে নীল কেনা ও চাষিদের দারিদ্র্য
i. নীলচাষিরা ফসলের ন্যায্য দাম পেত না।
ii. বাজারে নীলের উচ্চমূল্য থাকলেও, নীলকররা কৃষকদের কম দামে ফসল দিতে বাধ্য করত।
iii. ফলে চাষিরা ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ত।
৩. জমির ক্ষতি ও কৃষকদের দুর্দশা
i. নীল চাষের ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যেত।
ii. কৃষকদের কাছে নীল চাষ লাভজনক ছিল না, কারণ এতে খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাহত হত।
iii. জমির উর্বরতা নষ্ট হলেও নীলকররা কৃষকদের অন্য ফসল ফলাতে দিত না।
৪. অত্যাচার ও জুলুম
i. নীলকরদের অত্যাচার চরমে পৌঁছেছিল।
ii. চাষিরা নীল চাষে অস্বীকৃতি জানালে তাদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হত।
iii. জোর করে চুক্তিতে স্বাক্ষর নেওয়া হত এবং না মানলে তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করা হত।
বিদ্রোহের ফলাফল
i. কৃষকরা একযোগে নীলচাষ বন্ধ করে দেয় এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ গড়ে তোলে।
ii. বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশ সরকার কঠোর দমননীতি গ্রহণ করলেও নীল কমিশন গঠিত হয় (১৮৬০)।
শেষ পর্যন্ত, ১৮৬১ সালে সরকার নীলচাষ বাধ্যতামূলক নয় বলে ঘোষণা করে, যার ফলে বাংলায় নীলচাষ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়।
Enter Your Comment